সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মসুর ডাল আমদানি কমেছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারত থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দাম বৃদ্ধি পণ্যটির আমদানি কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ৬২২ টন। যার মূল্য ছিল ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা। চলতি বছরের একই সময় স্থলবন্দরটি দিয়ে মসুর ডাল আমদানি কমে ১০১ টনে নেমে এসেছে। এ সময় আমদানীকৃত পণ্যটির দাম ছিল ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানি কমেছে ৫২১ টন।
ভোমরা স্থলবন্দরের কৃষিজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার বলেন, ‘ভারতের বাজারে সম্প্রতি মসুর ডালের সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের আমদানিকারকরা পণ্যটির আমদানি কমিয়েছেন।’
স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত।
সুলতানপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঠাকুর স্টোরে গতকাল চিকন মসুর ডাল খুচরায় বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায়। এ সময় মাঝারি চিকন ডাল ১৪০ ও মোটা ডাল কেজিপ্রতি ৮৫-৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগেও প্রতিষ্ঠানটিতে চিকন মসুর ডালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা। এছাড়া মাঝারি ও মোটা ডাল কেজিপ্রতি ১৩০ ও ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘সরবরাহ কমার পাশাপাশি সম্প্রতি পাইকারিতে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। ফলে প্রকারভেদে মসুর ডালের দাম খুচরায় কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, মসুর ডালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।